শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল। সেই সঙ্গে ভোর থেকে বইছে হিমেল হাওয়া। প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে পাহাড়, চা-বাগান, হাওরঘেরা এ অঞ্চলের মানুষজন।
সকালের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করেই দিনমজুরেরা বেরিয়েছেন কাজের সন্ধানে।
গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা কিছুটা মিললেও মৃদু হিমেল বাতাসে ঠান্ডার মাত্রা মোটেও কমেনি।
তীব্র শীত ও ঠান্ডা বাতাসে ব্যাহত হচ্ছে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানে আড্ডা ও শীত নিবারণের চেষ্টায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে নিম্নআয়ের মানুষদের। তীব্র শীতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
কমলগঞ্জের সংবাদকর্মী শাব্বির এলাহী ও সাদিকুর রহমান সামু বৃহস্পতিবার সকালে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালালে শীত আরও বেশি মনে হয়। একেবারে বুকে এসে বাতাসের ধাক্কা লাগে। তার ওপর বৃষ্টির ফোঁটার মতো রাত থেকে পড়ে ঘনকুয়াশা। হাতের সমান দূরত্বও স্পষ্ট দেখা যায় না।’
ব্যবসায়ী মুমিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন দুপুর পর্যন্ত ধোঁয়ার মতো কুয়াশা ঘিরে রাখে চারপাশ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতারা আসে না। একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা।’
এদিকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল এ দুই উপজেলাই চা বাগানে ঘেরা। গাছ-গাছালিতে ভরপুর থাকায় চা বাগান এলাকা এমনিতেই সব সময় শীতল থাকে। এখানে শীত নামে আরও বেশি তীব্র হয়ে।
কমলগঞ্জের ফুলবাড়ি চা বাগানের কয়েকজন শ্রমিক জানান, ‘ভোরবেলা ও বিকেল হলেই বসে রাস্তায় আগুন পোহাতে হয়। ঠান্ডার কারণে মাটির ঘরেও থাকতে কষ্ট হয়। হাত-পা মনে হয় কেটে যাচ্ছে। শীত তাদের কাছে দুর্ভোগের নাম।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীতে এখানকার শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া সহকারী মো. আনিসুর রহমান জানান, ‘তাপমাত্রা দিন দিন নিচে নামার কারণে শীতের তীব্রতাও বাড়ছে। সিলেট বিভাগের মাঝে সবচেয়ে বেশি শীত এ অঞ্চলেই রেকর্ড হয়। প্রকৃতি ও পরিবেশগত কারণে এখান অন্যান্য জায়গার তুলনায় ঠান্ডা বেশি।’